'ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থার স্বরূপ ও প্রকৃতি' বিষয়ক একটি অনুচ্ছেদ রচনা করুন।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। মানব জীবনের এমন কোনো দিক নেই যা ইসলামে বর্ণিত হয়নি। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় এমনটি অর্থনৈতিক বিষয়ে যাবতীয় সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান দিয়েছে ইসলাম। ইসলাম মানুষকে কর্মবিমুখ করে না বরং নিজ জীবিকা হালালভাবে অর্জন করতে উৎসাহিত করে। ইসলাম দিয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক নীতিমালা যা অনুসরণ করলে একটি সুখী, সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়া সম্ভব, নিচে ইসলামী অর্থনীতির সংজ্ঞাসহ সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানে এর ভূমিকা আলোচনা করা হলোঃ
ইসলামী অর্থনীতিঃ মানুষের জীবনে অভাব অসীম। প্রয়োজন ও আবশ্যকতাকে কেন্দ্র করেই তার জীবনের দিনরাত চক্রাকারে ঘুরছে। অভাব মেটানোর জন্য চেষ্টা ও শ্রমের ফলে উৎপাদন এবং এই উৎপাদনের আয় দ্বারা প্রয়োজন মিটানো এটিই অর্থনীতির মূল কথা। মানুষের জীবন যাত্রা প্রবাহের এই অপরিহার্য প্রয়োজন এবং তা মিটানোর জন্য ইসলামসম্মত উপায়, পন্থা ও পদ্ধতিই হলো ইসলামী অর্থনীতি।
অর্থনৈতিক মুক্তিঃ একজন মানুষের জীবনে প্রধান কাম্য হলো অর্থনৈতিক মুক্তি। আল্লাহর ইবাদত করতে হলেও এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কেউ নিজে ক্ষুধার্ত ও পরিবার পরিজনকে ক্ষুধার্ত রেখে সঠিকভাবে আল্লাহর ইবাদতের জন্যও প্রয়োজন অর্থনৈতিক মুক্তি। আর ইসলামী অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্য হলো জনসাধারণের অর্থনৈতিক মুক্তি।
অর্থনৈতিক ভারসাম্যঃ সমাজে শান্তি আনয়নে প্রয়োজন সমাজের সকলের মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্য। অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে সামজে দেখা দিবে হিংসা, বিদ্বেষ, মারা-মারি, ধনী-গরীব বিভেদ। এজন্য ইসলামী অর্থনীতি অর্থনৈতিক ভারসম্য আনয়নে সাদ সচেষ্ট।
দারিদ্র্যের অবসানঃ সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত সমাজ থেকে দরিদ্রতার অবসান ঘটানো। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম নিরাপত্তার ধর্ম। আর তাই ইসলামী অর্থনীতির মূল লক্ষ্যও হলো সমাজ থেকে দরিদ্রতা দূর করে স্বনির্ভর দেশ ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা। এখানে যাকাত দান, সাদকা করার কথা বলা হয়েছে। যার মাধ্যমে দরিদ্রতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
একাধিক বাক্য দিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচিত হয়। আবার বহু অনুচ্ছেদের সমন্বয়ে তৈরি হয় প্রবন্ধ, গল্প ইত্যাদি গদ্যরচনা। এদিক থেকে অনুচ্ছেদ হলো গদ্যরচনার একক। একটি অনুচ্ছেদের মধ্যে বিশেষ একটি ভাবের প্রকাশ ঘটে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের অবতারণা করা হয়। তাই অনুচ্ছেদের বাক্যগুলো ভাব বা বিষয়ের দিক দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে। ভালো অনুচ্ছেদের সমন্বয়ে একটি গদ্যরচনা আকর্ষণীয় হয়। শিক্ষার্থীকে তাই ভালোভাবে অনুচ্ছেদ লিখতে শেখা দরকার। অনুচ্ছেদ রচনার সময়ে যেসব বিষয় মনে রাখতে হয়, সেগুলো নিম্নরূপ:
ক. অনুচ্ছেদে সব সময়ে একটি ভাব বা একটি বিষয় থাকে।
খ. একটি অনুচ্ছেদের মধ্যে একাধিক ভাব বা বিষয়ের অবতারণা করা ঠিক নয়।
গ. একটি বাক্য দিয়েও একটি অনুচ্ছেদ হয়। তবে দশ থেকে পনেরো বাক্যের অনুচ্ছেদই হলো আদর্শ অনুচ্ছেদ।
ঘ. অনেক সময়ে যৌক্তিক কারণে অনুচ্ছেদ দীর্ঘতর হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভাব বা বিষয়ের সূক্ষ্মতর বিভাজন বিবেচনায় নিয়ে একটি অনুচ্ছেদকে একাধিক অনুচ্ছেদে বিভক্ত করা যায়।
ঙ. অনুচ্ছেদের প্রথম বাক্যে মূল ভাব বা বিষয়ের উল্লেখ করা হয়।
চ. অনুচ্ছেদের পরের বাক্যগুলোতে প্রথম বাক্যে উল্লিখিত ভাব বা বিষয়ের বিস্তার ঘটানো হয়ে থাকে।
ছ. অনুচ্ছেদের শেষ বাক্যে থাকে ভাব বা বিষয়ের সমাপ্তির ইঙ্গিত।
”বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ” এর উপর একটি অনুচ্ছেদ লিখুন।
‘‘বাংলা নববর্ষ’‘ এর একটি অনুচ্ছেদ লিখুন।
অনুচ্ছেদ লিখুন: ‘‘ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ–প্রস্তুতি ও করণীয়”।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?